0
pcb1 pcb2
বিষয় :-স্টোরেজ ডিভাইস Storage Device

সুচিপত্র - প্রধান মেনু

Computer Basic কমপিউটার পরিচিতি

PC Hardware

কমপিউটারের গঠন

CPU সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট

Primary Hardware প্রাইমারী হার্ডওয়ার

Secondary Hardware সেকেন্ডারী হার্ডওয়ার
Input Unit ইনপুট ইউনিট
Output Unit আউটপুট ইউনিট

Memory কমপিউটার মেমোরী

Storage device তথ্য সংরক্ষন

Install Hardware কমপিউটার এসেম্বল
System Control সিস্টেম সফটওয়ার
OS অপারেটিং সিস্টেম
PC Booting পিসি বুটিং
Application Software এপ্লিকেশন সফটওয়ার
Computing in Bangla বাংলা কমপিউটিং
Multimedia মাল্টিমিডিয়া
Desktop Publishing ডেস্কটপ পাবলিকেশন
Utility Software ইউলিটি সফটওয়ার
Virus & Antivirus ভাইরাস ও প্রতিরোধ
PC Networking কমপিউটার নেটওয়ার্কিং
Internet ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তি
Hardware Problem হার্ডওয়ার সমস্যা ও সমাধান
Windows OS উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম
Software Problem সফটওয়ার সমস্যা ও সমাধান
Windows Tips & Tricks  উইন্ডোজ সমস্যা ও সমাধান
PC Maintenance কমপিউটারের পরিচর্য্যা
FAQ প্রশ্ন ও উত্তর
 

 স্টোরেজ ডিভাইস :

শব্দটির অভিধানিক অর্থ হলো - যার মাধ্যমে তথ্যাদি সংরক্ষণ রাখা যায়। কমপিউটারের জন্মলগ্ন থেকেই এটি কমপিউটারের একান্ত সঙ্গী। এটা ছাড়া কমপিউটার কল্পনাই করা যায় না। সফটওয়্যার হলো কমিপউটারের প্রাণ, আর এই প্রাণ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরণের স্টোরেজ ডিভাইস। স্টোরেজ ডিভাইসের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে হার্ডডিস্ক ও ফ্লপি ডিস্কের কথা। ৮৭ সালের আগ পর্যন্ত ৫.২৫ ফ্লপি ডিস্ক ও ১০-২০ মে.বা. হার্ডডিস্কের অধিপত্য ছিলো সমস্ত বিশ্বজুড়ে। তখন একটি ১.২ মে.বা.ফ্লপি ডিস্কেই অপারেটিং সিস্টেম, ওয়ার্ড প্রসেসর, স্প্রেডশীট প্রোগ্রাম ছাড়াও আরও কিছু বাড়তী ফাইল সংরক্ষণ করা যেতো। সে সময় কমপিউটার ব্যবহারকারী গণ তাদের ১২ মেগাহার্টজ স্পীডের কমপিউটারের একটি ১.২ মে.বা. ফ্লপি ডিস্ক ঢুকিয়ে কাজ করতে বড়ই গর্ব বোধ করতেন। পরবর্তীতে ৩.৫ " ফ্লপি ডিস্ক ও ১০০-১২০ মেগাবাইটের হার্ডডিস্কের আগমনে পুর্বের ডিভাইস গুলোর ব্যবহার কমে যায় এবং সেই সাথে শুরু হলো ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটাতে প্রোগ্রাম সমুহ উন্নত করার প্রক্রিয়া। অপারেটিং সিস্টেম, সেপ্রডশিট, ওয়ার্ড প্রসেসর, গ্রাফিক্স প্রোগ্রাম দখল করতে লাগালো মেগাবাইট জায়গা। ফলশ্র্রুতিতে কমপিউটার বিজ্ঞানীগণ ভাবতে শুরু করলেন কিভাবে স্টোরেজ ডিভাইস সমুহের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা যায়। তাদেরই গবেষণার ফলস্বরুপ আবিষ্কৃতি হলো নতুন নতুন সব ডিভাইস।

Hard Disk : হার্ডডিস্ক- কমপিউটারের স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে যেটির কথা সর্ব প্রথমে আসে সেটি হলো এই হার্ডডিস্ক। এটি মুলতঃ একটি ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস যেখানে প্রোগ্রাম সমুহ সংরক্ষণ করে চালানো হয়। সময়ের সাথে সেগুলোর ধারণ ক্ষমতা কেবল বৃদ্ধিই পায়নি কারিগরী উন্নয়নও ঘটছে। এই ডিভাইসটির যাত্রা শুরূ হয়েছিল ২০ মে.বা.ধারণা ক্ষমতা নিয়ে। অথচ বর্তমানে তার ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০  গিগাবাইট পর্যন্ত।

 

Floppy Disk : ফ্লপি ডিস্ক : প্রথম থেকে এই ডিভাইসটি এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্ট্যান্ডার্ড স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে টিকে আছে। ডিভাইসটি প্রথম তৈরি করে সনি কর্পোরেশন। ডিস্কটিতে চুম্কীয় পদ্ধতিতে ডাটা স্টোর করা হয়। প্রথম অবস্থায় একটি ডিস্কের ধারণ ক্ষমতা ছিলো ৭২০ কি.বা. (ডবল ডেনসিটি)। বর্তমানে ডিস্ক সমুহের ধারণ ক্ষমতা ১.৪৪ মে.বা. (হাই ডেনসিটি)। আমাদের দেশে স্টোরেজ ডিভাইসমুহের মাঝে হার্ডডিস্কের পরেই এটির স্থান। শুরতে ৫ ইঞ্চি ব্যাসের ফ্লপি ব্যবহার হতো । বর্তমানে ৩.৫ ইঞ্চি ডিস্ক ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

CD ROM : সিডিরম - ৩.৫ ডিস্কের পরেই বাজারে যে স্ট্যান্ডার্র্ড ডিস্কের আগমন ঘটে সেটি হলো এই সিডিরম। এটি একধরণের অপটিকাল স্টোরেজ ডিভাইস যার মধ্যে ৭২০ মে.বা. পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। তবে এর দুইটি বিরাট অসুবিধা রয়েছে। প্রথমতঃ সিডিরমে সংরক্ষিত তথ্য শুধুমাত্র পড়া যায় -তাতে কোন পরিবর্তন করা যায় না। দ্বিতীয়তঃ এর এক্সেস টাইম হার্ডডিস্কের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। এই স্টোরেজ ডিভাইসটি মুলতঃ সফটওয়্যার সরবরাহ ও মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামসমুহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে স্ট্যান্ডার্ড ডিভাইস হিসেবে সিডিরম ড্রাইভ সকল কমপিউটারের সাথে যুক্ত হয়েছে।

 

CD ROM -RW : সিডি রিড রাইটার্স - সিডিরমের অসুবিধাসমুহ কিছুটা হ্রাস করতে এই ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে। এসব ড্রাইভে রাইটেবল সিডি (Blank CD) ব্যবহৃত হয়, যে গুলোতে আপনি আপনার কমপিউটার হতে ৭২০  মে.বা. পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। নিজের প্রয়োজন মতো প্রোগ্রাম বা তথ্যাদি সংরক্ষণে, মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন ও অডিও সিডি তৈরিতে, হার্ডড্রাইভ ব্যাক-আপ প্রভৃতি কাজে এই ডিভাইসটি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে Re-writeable সিডি রমের বাজারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচেছ।

 

DVD ROM : ডিভিডি ড্রাইভ - সাম্প্রতিক কালে সিডি-রম প্রযুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ডিভিডি নামক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। ডিভিডি সিডি রমের চেয়ে বহুগুন বেশী তথ্য ধারন করতে পারে (এর ধারন ক্ষমতা ৪.৭ গিগাবাইট - সিডির চেয়ে প্রায় ৭ গুন বেশী)। ইহা সিডি রমের মতই অডিও ভিডিও ধারন করতে সক্ষম । একটি পূর্নদৈর্ঘ ছায়াছবি রেকড করতে ২/৩ টি সিডি লাগে অথচ একটি মাত্র ডিভিডিতে তিন ঘন্টার পূর্নদৈর্ঘ ছায়াছবি রেকর্ড করা যায়।

 

Tape Drive : টেপ ড্রাইভ : এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ব্যাপআপ স্টোরেজ ডিভাইস। হার্ডডিস্কের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ব্যাকআপের কাজে ডিভাইসটি ব্যবহৃত হয়। এই ডিভাইসটিতে বিশেষ ধরণের টেপ কার্টিজ ব্যবহৃত হয় যাতে ম্যাগনেটিক্যাল সেনসিটিভ টেপ থাকে। এই জাতীয় ড্রাইভের মধ্যে কোয়ার্টার ইঞ্চি কার্টিজ (QIC) টেপ ড্রাইভ সর্বাধিক প্রচলিত। এসব ড্রাইভের টেপ কার্টিজের ধারণ ক্ষমতা ৫০ মে.বা. থেকে ২০০ জি.বা. পর্যন্ত এবং তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচেছ।

 

Optical disk Drive : অপটিকাল ডিস্ক ড্রাইভ - এই ড্রাইভটিতে যে ডিস্ক ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তা পড়ার জন্য বিশেষ ধরণের লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। পুর্বে উল্লেখিত সিডি ড্রাইভ, ডিভিডি, ব্লু-রে অপটিকাল ডিস্ক ড্রাইভ এর উদাহরন। এছাড়া ও রয়েছে রি-রাইটেবল অপটিকাল ডিস্ক। এগুলো তথ্যাদি সংরক্ষণ ও পরিবর্তন করা যায়। তবে এগুলোর এক্সেস টাইম হার্ডডিস্ক অপেক্ষা কম।

 

MO Drive :  ম্যাগনেটো অপটিকাল ড্রাইভ  - এটি এমন একটি স্টোরেজ ডিভাইস যাতে লেজার টেকনোলজির সাহায্যে ম্যাগনেটো অপটিক্যাল কার্টিজে তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হয়। উক্ত কার্টিজে ম্যাগনেটিক মিডিয়াম ব্যবহার করা হয় বলে এই ডিভাইসটিকে ম্যাগনেটিক ডিভাইস ও অপটিক্যাল ডিভাইসের যোগসূত্র বলা যেতে পারে। এই কার্টিজগুলোও সাধারণত ৩.৫ ও ৫.২৫ হয়। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা ২.৬ জি.বা. পর্যন্ত। এই স্টোরেজ ডিভাইসটির প্রধান গুণ এর স্থায়ীত্ব। এতে সংরক্ষিত তথ্যাদি সাধারণ হার্ডডিস্ক বা ফ্লপি ডিস্কের চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী। তবে এর ও দোষ ধীর এক্সেস টাইম ।

 

Zip :  জিপ ড্রাইভ - বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান আলোচিত স্টোরেজ ডিভাইসটি হলো Iomega কোমপানির Zip ড্রাইভ। ১.৪৪ মেগাবাইটের একটি ফ্লপি ডিস্কের চেয়ে সামান্য বড় আকারের একটি Zip ডিস্কে ১০০ মে.বা.পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। আমেরিকা ও বৃটেনে এখন এই ডিভাইসটি স্ট্যান্ডার্ড স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে বিভিন্ন মডেলের কমপিউটারের সাথে বাজারজাত হচেছ। ডিভাইসটির এক্সেস টাইম তুলনামুলকভাবে ভালো এবং মুল্যও সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে।

 

Pen Drive : পেন ড্রাইভ - এর অন্য নাম ইউ,এস,বি ফ্রাশ ড্রাইভ। ইহা এক ধরনের ফ্লাশ মেমোরী ষ্টোরেজ ডিভাইস যা  ইউ,এস,বি ইন্টারফেস-এর সাথে সমন্বিত থাকে। এই ড্রাইভ বার বার খোলা ও লাগানো যায় এবং এর তথ্য মুছে লেখা যায়।  ইহা ফ্লপি ডিস্ক থেকে ছোট এবং ওজন খুব কম (৩০ গ্রামের নীচে)।  বর্তমানে এর ধারন ক্ষমতা ৮ গিগাবাইট - দিন দিন এর ক্যাপাসিটি যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে , তেমনি দাম কমছে। কোন কোন প্রস্তুতকারক ১০ বছরের ডাটা সংরক্ষনের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে - এতে ১০ লক্ষ বার ডাটা লেখা ও  মোছার সুযোগ পাওয়া যাবে। ইহা সহজে বহনযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য  বিধায় ডাটা ট্রান্সফারের জন্য  আগের আমলের ফ্লপি ডিস্কের পরিবর্তে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

Jaz : জাজ ড্রাইভ-  Iomega- এর আরেকটি যুগান্তকারী আবিস্কার এর Jaz ড্রাইভ। এই ড্রাইভে Jaz ডিস্ক নামক এক বিশেষ ধরনের কার্টিজ ব্যবহৃত হয় যার ধারণক্ষমতা ১ জি.বা.। এই ডিভাইসটির বিশেষত্ব হলো হাড ©ডিস্কের মতো তথ্যাদি সংরক্ষণে ও প্রোগ্রাম নির্বাহে এই ডিভাইসটির জুড়ি নেই।

 

 

BluRay Disc -   ব্লু-রে ডিস্ক - ব্লু-রে ডিস্ক এক ধরনের অপটিকাল ষ্টোরেজ ডিভাইস (সিডি বা ডিভিডি ডিস্কের মত) যার ধারন ক্ষমতা ডিভিডি ডিস্কের চেয়ে অনেকগুন বেশী। ইহা সাধারনত প্লেষ্টেশন-৩ , হাই ডেফিনেশন ভিডিও ও ডাটা ষ্টোর করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই ডিস্কের ক্যাপাসিটি সিংগেল লেয়ার হলে ২৫ গিগাবাইট এবং ডাবল লেয়ার হলে ৫০ গিগাবাইট (ডিভিডির ক্যাপাসিটি ৪.৭ গিগাবাইট)। অথচ আকৃতি ও প্রকৃতিতে ইহা সিডি বা ডিভিডির মতই। ব্লু ভায়োলেট লেজার রশ্নি (যা দিয়ে এই ডিস্কে লেখা ও পড় হয়) থেকে এর নাম হয়েছে ব্লু-রে ডিস্ক। ডিভিডিতে ৬৫০ নেনোমিটার লাল লেজার রশ্নি ব্যবহার হয়,পক্ষান্তরে ব্লু-রে ডিস্ক-এ সল্প দৈর্ঘ্য ৪০৫ ন্যানোমিটার ব্লু ভায়োলেট লেজার রশ্নি, যার ফলে ইহা ডিভিডির চেয়ে ছয়গুন অধিক তথ্য ধারন করে।

ব্লু-রে ডিস্ক এসোসিয়েশন কর্তৃক ইদানিং এই ডিস্ক আবিস্কৃত হয়। জুন ২০০৯ এর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়াতে ১০০০, জাপানে ২৫০০ , ইউকে-তে ১৫০০ ও আমেরিকায় ২৫০০ ডিস্ক উৎপাদিত হয়।   

আরো দেখুন - সেকেন্ডারী হার্ডওয়ার

 

Infosoft Multimedia: All Rights Reserved.

Template Monster Website Templates